মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার করিমপুর গ্রামে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বসতঘরের সামনের উঠানে পেয়ারা গাছের নিচে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে স্বামী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর সোমবার ৬ জুলাই অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির উঠান খুঁড়ে নিহত জাহেদা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জাহেদা বেগম রাজনগর উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আট বছর বয়সী এক ছেলে সন্তানের জননী। গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেন করিমপুর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে আলমগীর হোসেন তাঁর স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে গভীর রাতে নিজ বসতঘরের সামনের উঠানে একটি পেয়ারা গাছের নিচে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দেন।
ঘটনার কয়েক দিন পর সন্দেহ এড়াতে আলমগীর দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। এ বিষয়ে তিনি মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাহেল হোসেনের সঙ্গেও একই কথা বলেন। তবে বিদেশে যাওয়ার কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় চেয়ারম্যানের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে তিনি বিষয়টি রাজনগর থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
এরপর আলমগীর থানায় এসে স্ত্রী নিখোঁজ উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করতে চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁর বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়ে। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সিআইডি এবং পিবিআই কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠান খুঁড়ে জাহেদা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া জানান, অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।