মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনা এবং ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। কমিটির একটি পদকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগের তীর মূলত বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বুলবুল আহমেদ ওয়াতীরকে নিয়ে। বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী সরকারের আমলে তাঁর বিতর্কিত ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিওর কারণে সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের মাঝে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রহিমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদের ছোট ভাই ইফতেখার আহমেদ বদরুলের পক্ষে প্রকাশ্য নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন ওয়াতীর মেম্বার। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময়ে বিএনপির আদর্শের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা এবং বর্তমান সংসদ সদস্য হাজী মো. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়ার একাধিক ভিডিও বর্তমানে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।
দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে নির্যাতিত ও বঞ্চিত থাকা তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা এই অন্তর্ভুক্তিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেন এবং দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। অনেকের মতে, যারা দলের দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের অবমূল্যায়ন করে এমন “হাইব্রিড” ও সুবিধাবাদী নেতাদের দলে স্থান দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং ত্যাগী কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমনে এই কমিটি দ্রুত পুনর্বিবেচনার জোর দাবি উঠেছে। রহিমপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ বিতর্কিত এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য স্থানীয় অভিভাবক সংসদ সদস্য হাজী মো. মুজিবুর রহমানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।