মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় সাংবাদিকতার মতো একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশাকে পুঁজি করে দিনের পর দিন নানামুখী অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নিজেকে কখনো অনলাইন প্রেস ক্লাব আবার কখনো জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের দাপুটে সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসা মোহাম্মদ নিজামুদ্দিনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ, জায়গা দখল, সুদের ব্যবসা এবং চাঁদাবাজির একাধিক গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডিও ঠিকমতো পার হতে পারেননি এই নিজামুদ্দিন। নিজের নাম বানান করে লেখার ন্যূনতম দক্ষতা না থাকলেও, ভুয়া পরিচয় ও কথিত ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি এলাকায় অপরাধের এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলার বলরামপুর সোনারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস আলীর কাছ থেকে জায়গা বন্ধক দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নেন নিজামুদ্দিন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও তিনি ইউনুস আলীর পাওনা টাকা ফেরত দেননি। উল্টো ফোন করে হুমকি-ধামকি দিয়ে দাবি করছেন যে, টাকা পরিশোধ হয়ে গেছে এবং জোরপূর্বক বন্ধকী জায়গাটি ফেরত নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। পাওনাদার পাওনা টাকা চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগের ব্যাপ্তি এখানেই শেষ নয়। মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী আরমান আলীর কাছে নিজামুদ্দিনের নানী আইনগতভাবে জমি বিক্রি করা সত্ত্বেও, নিজামুদ্দিন তার ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দীর্ঘদিন সেই জমির দখল নিতে দেননি। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আরমান আলী দেশে ফিরলে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ওই এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষ নিজামুদ্দিনের প্রতারণার শিকার। ধার হিসেবে টাকা নিয়ে তিনি আর কখনো তা ফেরত দেন না। পাওনাদাররা টাকা চাইতে গেলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মারধর ও হুমকি দেওয়া তাদের নিত্যদিনের চিত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী নারী জানান, ২০২২ সালে তার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ধার নেন নিজামুদ্দিন। আজ ২০২৬ সালে এসেও সেই টাকা ফেরত পাননি তিনি; উল্টো টাকা দাবি করলে দেওয়া হচ্ছে নানা ধরণের হুমকি।
সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে উপহার ও উপঢৌকন গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিক মামলা এবং পাওনাদারদের তাড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে বর্তমানে নিজামুদ্দিন তার জন্মস্থান বলরামপুর ও মুন্সিবাজার এলাকা থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ এলাকার বিশিষ্ট সালিশ বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিজামুদ্দিনের অগণিত অপকর্মের বিচার করতে করতে এলাকার সচেতন মহল আজ অতিষ্ঠ। তিনি বহু মানুষের সাথে প্রতারণা করেছেন। তার পেছনে অদৃশ্য প্রভাবশালী শক্তি কাজ করছে, যা তাকে বারবার আইনি ব্যবস্থা থেকে রক্ষা করে আসছে। আব্দুল মালিক এই পেছনের শক্তির রহস্য উন্মোচনের জোর দাবি জানান এবং আশ্রয়দাতাদের মুখোশ উন্মোচনসহ নিজামুদ্দিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান।
এলাকাবাসীর আকুল দাবি, পবিত্র এই পেশাকে ঢাল বানিয়ে যারা অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলছে, সেই ভুয়া সাংবাদিক নিজামুদ্দিনকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে এমন অপকর্ম করার দুঃসাহস না পায়।