বিশেষ ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে নানা অপকর্ম চালানোর অভিযোগ উঠেছে মহম্মদ নিজামউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তার অপরাধ সাম্রাজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিগত রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গা ঢাকা দিলেও তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পাহাড় জমছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশাগত ছদ্মবেশ
অনুসন্ধানে জানা যায়, অতীতে ক্ষমতাসীন যুবলীগের কর্মী পরিচয় ব্যবহার করে নিজ এলাকা ও সংলগ্ন অঞ্চলে একচ্ছত্র দাপট বিস্তার করেছিলেন নিজামউদ্দিন। সিএনজি চালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি পরবর্তীতে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর মারধর, হামলা, ছিনতাই ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনেকে জানান, পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে ভুক্তভোগীদের ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নিজামউদ্দিন নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও স্থানীয় বাসিন্দারা এখন তার অতীতের অপকর্মের বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
সামাজিক অনাচার ও জুয়ার নেটওয়ার্ক
স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন নিজামউদ্দিন। বিভিন্ন সামাজিক অনাচারের পাশাপাশি শীতকালীন সময়ে চা বাগান এলাকায় আয়োজিত অবৈধ ‘১১০’ নামের জুয়ার আসরের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আয়োজক ছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে চৈত্রঘাট এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা অবস্থায় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হলেও কৌশল খাটিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
প্রবাসীদের সম্পদ আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকি
নিজামউদ্দিনের অপরাধ চক্রের শিকার হয়েছেন একাধিক প্রবাসী ও তাদের পরিবার। প্রবাসী মহম্মদ আরমান আলী, মহম্মদ ইউনুস আলী এবং স্থানীয় একাধিক নারীর ভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বর্তমানে সৌদিতে অবস্থানরত প্রবাসী মহম্মদ মুকাম্মিল আলীর পরিবার তার ভয়াবহ অত্যাচারের কথা জানিয়েছেন। প্রবাসীর স্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নিজামউদ্দিন তার সশস্ত্র দলবল নিয়ে একাধিকবার হামলা ও হেনস্তার চেষ্টা চালায়।
এছাড়া নিজামউদ্দিনের প্রতিবেশী মহম্মদ মনজির আলী জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তর্কের জেরে নিজামউদ্দিন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে প্রকাশ্যে হত্যার উদ্দেশ্যে তাড়া করেন। তার এই হিংস্র আচরণে এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে এক ত্রাসের রাজত্ব বিরাজ করছিল।
গণমাধ্যমের কার্ড ও নেপথ্যের মদদদাতা
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, যে ব্যক্তি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডিও অতিক্রম করেননি, সেই ব্যক্তি কীভাবে ‘দৈনিক আলোকিত নিউজ’ ও ‘নিউজ বিডি ২৪’ এর মতো গণমাধ্যমের প্রেস কার্ড অর্জন করলেন? অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুয়া সাংবাদিকতার এই কার্ড ব্যবহার করে তিনি নিজের অপরাধ কর্মকাণ্ডকে সুরক্ষা দিতেন এবং আইনি হাত থেকে নিজেকে আড়াল করতেন।
তথ্য মেলে, একাধিক প্রভাবশালী প্রবাসী ও স্থানীয় অসাধু চক্র তাকে আইনি ও সামাজিকভাবে সুরক্ষা দিয়ে আসছে।এই প্রভাবশালী প্রবাসী যারা নিজামুদ্দিনকে সুরক্ষা দিচ্ছেন তারা এতটাই পাওয়ারফুল যে স্থানীয় অনেক লোকজন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পর্যন্ত পাচ্ছেন না এবং তারা অনেক আতঙ্কের মধ্যে আছেন যে নাম প্রকাশ করলে হয়তো তাদের বিরুদ্ধে হামলা মামলা ইভেন কি আরো বড় ধরনের অপরাধ তাদের সঙ্গে ঘটতে পারে। এই প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকেই নিজামউদ্দিন প্রতিনিয়ত অপকর্ম চালানোর সাহস পেয়েছেন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
অপরাধের সঠিক তদন্ত করে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ধারী নিজামউদ্দিন এবং তাকে মদদ দেওয়া নেপথ্যের সকল প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।