ব্যক্তিগত শত্রুতা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অপসাংবাদিক মোহাম্মদ নিজামুদ্দিনের প্রচারিত ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী মোহাম্মদ আরমান আলী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক লাইভ ভিডিওতে যুক্ত হয়ে তিনি উক্ত নিউজের আসল সত্য উদ্ঘাটন করেন এবং তার ওপর চলা বিভিন্ন অন্যায়-অত্যাচারের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
লাইভ ভিডিওতে প্রবাসী আরমান আলী জানান, মোহাম্মদ নিজামুদ্দিনের সাথে তার পূর্বের কোন ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। তিনি নিজামুদ্দিনের পালিত নানির কাছ থেকে বৈধ প্রক্রিয়ায় একটি জমি খরিদ করেন। জমি ক্রয়ের পর থেকেই নিজামুদ্দিন বিভিন্ন কৌশলে তাকে সরাসরি হুমকি-ধামকি দেয় এবং জমি রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ করার নানা চক্রান্ত চালায়। তবে সকল বাধা উপেক্ষা করে তিনি জমিটির আইনি মালিকানা অর্জন করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি ক্রয়ের পর থেকেই নিজামুদ্দিন তার বাহিনী দিয়ে জমি দখলে বাধা দেয় এবং ক্রমাগত হয়রানি চালাতে থাকে। বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি একাধিকবার স্থানীয় শালিস-বৈঠকে বসেন। তবে সমাধান না পেয়ে এক পর্যায়ে রশীদপুর জমাদার বাড়ির বেলায়েত হোসেনের ছেলে এবং আরমান আলীর মামাতো ভাই মোহাম্মদ সুমের আহমেদ তার সাথে যোগাযোগ করেন। সুমের আহমেদ দাবি করেন, নির্দিষ্ট অংকের টাকা নিজামুদ্দিনকে দিলে তিনি এই বিরোধ মিটিয়ে দেবেন। এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় বলরামপুর শেখের বাড়ির শেখ সাহেবের ভাতিজা এমদাদুর রহমান মাহবুবও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
পরবর্তীতে প্রবাসী আরমান আলী প্রবাসে অবস্থান করায় তার পক্ষে স্ত্রীকে উক্ত বৈঠকে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেই বৈঠকে নিজামুদ্দিন তার ইচ্ছামতো পক্ষপাতদুষ্ট লোক নিয়ে উপস্থিত হন এবং সকলে নিজামুদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরমান আলীর স্ত্রী ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়ে বৈঠক ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে আরমান আলী দেশে ফিরলে মোহাম্মদ সুমের আহমেদ তাকে নানাভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে পুলিশ নিয়ে তার বাড়িতে উপস্থিত হন। একই সাথে এমদাদুর রহমান মাহবুব মুঠোফোনে তাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিতে থাকেন। নিরুপায় হয়ে প্রবাসী আরমান আলী আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আরমান আলীর পক্ষে রায় প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি আদালতের রায়ের ভিত্তিতে নিজ কার্যক্রমে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে এনেছেন।
আদালতের রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলেও এলাকার সচেতন মহলে এখন নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে। অপসাংবাদিক নিজামুদ্দিনের এমন বেপরোয়া আচরণের পেছনে মূলত কার ছত্রছায়া রয়েছে? সুমের আহমেদ ও এমদাদুর রহমান মাহবুবের ভূমিকা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে। তারা কি নিজামুদ্দিনের মূল আশ্রয়দাতা ও মদদদাতা হিসেবে কাজ করছেন? এলাকার সাধারণ মানুষ এখন এসব প্রশ্নের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ জবাব চান।